আমরা যারা পাউরুটি কিংবা পিজ্জা বা এই জাতীয় বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য তৈরি করে থাকি তাদের জন্য ভালো মানের ইস্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইস্ট হচ্ছে এক ধরনের ছত্রাক বিশেষ এবং খাদ্য প্রস্তুত করার সময় এটি যদি খাদ্যের উপাদান গুলোর সাথে দ্রবীভূত করা হয় তখন ইস্ট খাদ্যতে উপস্থিত চিনির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে এবং সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস খাদ্যদ্রব্য টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে আমরা পছন্দ অনুযায়ী আকৃতির খাবার তৈরি করতে পারি এবং ইস্ট এর কারণে সেই আকৃতি বজায় থাকে। 

সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে আমাদের ব্যবহৃত ইস্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকতে পারে এবং খাবারের নিষ্ক্রিয় ইস্ট ব্যবহার করলে খাবারের গুণগত মান দিক কমে যায়। তাছাড়াও খাবারে কাঙ্খিত আকৃতি কোন ভাবেই পাওয়া সম্ভব হয় না। তাহলে অবশ্যই নিশ্চিত করা উচিত আপনার ব্যবহৃত ইস্ট মান সম্মত কিনা এবং সক্রিয় আছে কিনা। 

খুব সহজ একটি পরীক্ষা দ্বারা আপনার ইস্ট এর কার্যকারিতা সহজেই নির্ণয় করা যায়। এক্ষেত্রে আপনি যা করবেন তা হচ্ছে, একটি ছোট বাটিতে করে এক কাপের মত বানিয়ে নেবেন এবং পানিটি হালকা একটু গরম করবেন। পানি যখন মোটামুটি কুসুমগরম তাপমাত্রায় চলে আসে তখন তাতে ১ থেকে ২ চামচ চিনি মিশিয়ে ভালোমতো নেড়ে দিবেন এবং তারপর আপনি যে ইস্ট ব্যবহার করবেন সেখান থেকে একটা চামচের সমপরিমাণ ইস্ট নিয়ে সে চিনি-পানির দ্রবনে মিশিয়ে দিবেন। এরপর কিছুক্ষণ নাড়লে দেখবেন যে যদি আপনার ইস্ট সক্রিয় হয়ে থাকে তাহলে পানিতে বুদবুদ তৈরি হতে থাকবে এবং তা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার ইস্ট এখন পর্যন্ত সক্রিয় আছে।

অনেক ক্ষেত্রে ইস্ট এর ধরনের ওপর নির্ভর করে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ মিনিট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন এবং তারপর দেখবেন যে কোন বুদবুদ সৃষ্টি হয়েছে কিনা। যদি হয় তাহলে বুঝতে পারবেন যে আপনার ইস্ট এখন পর্যন্ত সক্রিয় আছে কিন্তু যদি বুদবুদ সৃষ্টি না হয় তাহলে বোঝা যাবে যে আপনার ব্যবহৃত ইস্ট কোন কারণে নষ্ট হয়ে গেছে বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে ফ্রেশ স্কিনে ব্যবহার করাই উত্তম হবে 

উপরে উল্লিখিত পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার ইস্ট এর কার্যকারিতা অথবা সক্রিয়তা পরীক্ষা করতে পারবেন।