চীনের খাবার নিয়ে সারা বিশ্বে একটি চমৎকার প্রবাদ আছে সেটি হচ্ছে,

“ফ্যাশনের জন্য ইউরোপ, থাকার জন্য আমেরিকা আর খাবারের জন্য চীন।”

চাইনিজ দের জন্য খাবার প্রাত্যহিক জীবনের একটি  খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চাইনিজরা শুধু তাদের খাবারের প্রয়োজন এই খাবার খায় না বরং তারা মনে করে যে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে তারা সমাজে একটি সাম্যবস্থা তৈরি করতে পারবে এবং একইসাথে এর কারণে তাদের পরিবার এবং অন্যান্য সম্পর্ক ভালো থাকে।

চাইনিজরা তরতাজা খাবার পাওয়ার জন্য প্রতিদিনই তাদের রান্নার উপকরণ গুলো কেনাকাটা করতে যায়। চাইনিজরা তাদের খাবার তরতাজা হওয়ার জন্য সাধারণত জীবন্ত সামুদ্রিক খাবার, তরতাজা মাংস, মৌসুমী ফল এবং শাকসবজি পছন্দ করে আর এগুলো তারা তাদের লোকাল মার্কেট থেকে কিনে যাতে করে সেগুলো সত্যিকার অর্থেই তরতাজা হয়ে থাকে। এগুলোর মাঝে পড়ে সাঁতার কাটে এরকম মাছ, জীবন্ত কাঁকড়া এবং হাঁস-মুরগি। এমনকি যদি রান্না করা খাবার হয় যেমন হাঁসের বারবিকিউ তবে সেটিতেও এমনভাবে বাষ্প উঠতে হয় যেন মনে হয় মাত্র রান্না করা খাবারটিকে ওভেন থেকে বের করা হয়েছে।

চাইনিজরা সাধারণত খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্ব গুলোর মত খাবারের পুষ্টিমান সম্পর্কে সচেতন থাকে না। খাবারের পুষ্টিমান এর চাইতে তারা খাবারের রঙ, স্বাদ এবং গন্ধের দিকে বেশি মনোযোগী হয়। চাইনিজ মানুষদের রান্নার ক্ষেত্রে এই বিষয় গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাইনিজদের দৈনিক খাবারের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় লাগে সেগুলো হচ্ছে শস্য, তরিতরকারি, ফল এবং মাংস। যেহেতু চাইনিজরা ল্যাকটোজ সহ্য করতে পারেনা সেজন্য তারা সাধারনত দুগ্ধজাত খাদ্য পরিহার করে থাকে। আর এই দুগ্ধজাত খাবার এর পরিবর্তে চাইনিজরা ছয়ামিল্ক এবং টোফু খায়। কারণ এগুলোতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম থাকে। 

চাইনিজদের খাবার এর প্রধান উপাদান শাকসবজি, ফল মূল এবং মাংস সাধারণত বেশ সতেজ থাকে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বলা যায় কিছু ফ্রোজেন খাবারের কথা যেখানে কিছু শাকসবজি এবং অন্যান্য খাবার কে সংরক্ষিত করে ঠান্ডা হিসেবে রাখা হয়। তবে সাধারণত ক্যানের কিংবা ফ্রোজেন খাবার চাইনিজরা খুব কমই খেয়ে থাকে। 

তবে চাইনিজদের রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণত গভীর তেলে ভেজে রান্নার ব্যাপারটা পরিহার করা হয়। তবে আমেরিকাসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশ এবং পুরো বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গভীর তেলে ভেজে রান্না করার যে ব্যাপারটি এসেছে মূলত শুকর, মুরগি এবং চিংড়ি ভেজে সেগুলো সুস্বাদু করতে এবং পশ্চিমা বিশ্বের মানুষদের খাবারের মাধ্যমে মনোরঞ্জন করতে। আর এ কারণে সাধারণত বোঝা যায় ঠিক কি কারণে চাইনিজ সভ্যতার চাইতে পশ্চিমা বিশ্বের মানুষদের কেন এত উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের ব্যধিতে আক্রান্ত হতে হয়। 

দেশ-বিদেশে খাদ্যাভ্যাস সিরিজ এর এই পর্বে আমরা দেখলাম চাইনিজদের কিছু খাদ্যাভ্যাস যেখানে তাদের খাবার এবং সেগুলো খাওয়ার উপায় গুলো সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য আপনাদের জানানো হলো। দেশ-বিদেশে খাদ্যাভ্যাস সিরিজের পরবর্তী পর্বে আমরা আপনাদেরকে চাইনিজদের খাদ্যাভ্যাসের আরো বিশেষ কিছু তথ্য জানানোর চেষ্টা করব।